আবদুল কাদির, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
চাঁদপুর সদর উপজেলার তরপুচন্ডী ইউনিয়নের আনন্দ বাজার এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নৃশংস মারামারির গুরুতর এক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে শাহ আলম মিজি নামের এক ব্যক্তি মারাত্মক আহত হয়ে বর্তমানে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা সরকারি জেনারেল হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
থানায় দায়ের করা লিখিত এক অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ মার্চ বিকাল আনুমানিক ৫টার দিকে চাঁদপুর সদর মডেল থানাধীন তরপুচন্ডী ইউনিয়নের আনন্দ বাজারে জনৈক কাদির কাকার দোকানের পিছনে, টমেটো ক্ষেতের উত্তর পাশে অবস্থিত পরিত্যক্ত একটি ঘরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগকারী মোঃ শামীম মিজি (৫৪), পিতা-মৃত আক্কাস মিজি, সাং-উত্তর বিষ্ণুদি, ৯নং ওয়ার্ড, চাঁদপুর পৌরসভা, থানা ও জেলা-চাঁদপুর এর অভিযোগ সূত্রে জানা যায় , পূর্ব শত্রুতার জেরে অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার ছোট ভাই শাহ আলম মিজির উপর উক্ত হামলা চালায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার দিন ও সময়ে অভিযোগকারী শামীম মিজির ছোট ভাই শাহ আলম মিজি ঈদের ছুটিতে পরিবারসহ ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন এবং ঘটনাস্থলে অবস্থান কালে প্রতিবেশী বখাটে ও মাদকাসক্ত ১ নং অভিযুক্ত আরিফ (৪০), বিনা কারণে শাহ আলম মিজিকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন। এই বিষয়ে শাহ আলম মিজি প্রতিবাদ করিলে
সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন অতর্কিতভাবে দেশীয় অস্র সশ্র সজ্জিত হয়ে শাহআলম মিজির ওপর এলোপাথাড়ি হামলা চালায়। ১ নং অভিযুক্তের নেতৃত্বে ২ নং অভিযুক্ত সোবহান (২৩), ও ৩ নং অভিযুক্ত রবিন মৃধা (২৫) সহ আরও অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জন সাইনিজ কুড়াল, এসএস পাইপ দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। অন্যান্যরা উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকেন। এতে করে মোঃ শাহ আলম মিজির মুখের উভয় পাশের হার ভাঙ্গা সহ চোখে গুরুতর যখম হয়। ফলে গোটা দেহের যখমই সহ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ডাক-চিৎকারে সাক্ষীগণ ঘটনা স্থলে আসলে বিবাদীগণ দৌড়ে পালিয়ে যান।
পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হামলাকারীরা ঘটনাস্থলেই ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেছে। এতে পরিবারটি ভবিষ্যতে আরও ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
এ ঘটনায় মোঃ শামীম মিজি চাঁদপুর সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাগণ জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই ঘটনায় এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে। এলাকার সচেতন মহল জানান তদন্ত পূর্বক দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের রক্তপাতের আশঙ্কা বিরাজমান রয়েছে।
লগইন
ছবিঃ বিডিসিএন২৪
মন্তব্য করার জন্য লগইন করুন!