বাংলাদেশে যেন দিন দিন মানবিকতার দেয়াল ভেঙে পড়ছে। অসহায় ও প্রান্তিক মানুষের ওপর নির্যাতনের ঘটনাগুলো শুধু সংখ্যা বাড়াচ্ছে না, বরং প্রতিটি ঘটনাই সমাজের বিবেককে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় প্রকাশ্যে এক অসহায় মানুষকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে—তবুও এখনো মেলেনি বিচার, মেলেনি ন্যায়বিচারের আশ্বাস।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদল প্রভাবশালী ব্যক্তি হঠাৎ করেই ওই নিরীহ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। নির্দয়ভাবে তাকে মারধর করা হয়—প্রতিটি আঘাতে যেন ভেঙে পড়ছিল তার শরীর, আর নীরবে কাঁদছিল তার অসহায় জীবন। চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজন সব দেখেছে, কিন্তু ভয়ের দেয়াল ভেঙে কেউ এগিয়ে আসতে পারেনি। মানবতা সেদিন যেন নীরব দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।
রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা সেই মানুষটির আর্তচিৎকার আকাশে মিলিয়ে গেলেও, তার বিচার পাওয়ার আকুতি এখনো ঝুলে আছে অনিশ্চয়তার দোলাচলে। ঘটনার পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ, হতাশা আর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রশ্নগুলো এখন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে—এই দেশে কি শুধুই শক্তিশালীদের জন্য আইন? গরিব ও অসহায় মানুষের কি কোনো নিরাপত্তা নেই? কেন প্রতিবারই এমন নির্মম ঘটনার পর অপরাধীরা পার পেয়ে যায়? সাধারণ মানুষের কণ্ঠে আজ একটাই আর্তনাদ—“আমরা কি কখনো ন্যায়বিচার দেখতে পাবো?”
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি আজ সমাজকে ভয়ংকর এক অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অপরাধীরা যখন বুঝে যায় যে তাদের জন্য কোনো শাস্তি নেই, তখন তাদের নিষ্ঠুরতা আরও বেড়ে যায়। আর সেই নিষ্ঠুরতার শিকার হয় সমাজের সবচেয়ে দুর্বল মানুষগুলো।
সচেতন মহল মনে করছে, এখনই যদি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হয়, তবে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়বে। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দৃঢ় ও কার্যকর ভূমিকা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
এই এক ঘটনার মধ্য দিয়েই আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—বাংলাদেশের মানুষ আজ শুধু বাঁচতে চায় না, তারা মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে চায়; তারা চায় ন্যায়বিচার।
এখন প্রশ্ন একটাই—এই অসহায় মানুষের রক্তাক্ত আর্তনাদ কি প্রশাসনের বিবেককে নাড়া দেবে, নাকি সেটিও হারিয়ে যাবে বিচারহীনতার অন্ধকারে?
লগইন
ছবি- সংগৃহীত
মন্তব্য করার জন্য লগইন করুন!